Wednesday, May 23

মাদক ইস্যুতে কাউকে ছাড় দেব না:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী






চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের এর ব্যাপারে মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন মন্ত্রী। আর বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে ওঠা প্রশ্নে তিনি বলেন, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধই হচ্ছে।




কক্সবাজারের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার
অভিযোগ অনেক দিনের। বর্তমানে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে তার নাম পুনরায় আলোচনায় এসছে। সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সব জায়গায় তাকে নিয়ে সমলোচনার ঝড় বইছে।


সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। সে বদি হোক আর যেই হোক। সঠিক প্রমাণাদি আমরা যার বিরুদ্ধে পাচ্ছি আমরা তাকেই গ্রেফতার করছি। আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে পারি, সে সংসদ সদস্য হোক আর যেই হোক। তথ্য যেসব আসছে আমরা প্রমাণাদি জোগাড় না করে নক করছি না। আপনাদের কাছে যদি প্রমাণ থাকে পাঠিয়ে দিন। শুধু তার নয়, যে কারও বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ থাকে আপনারা আমাদের কাছে পাঠান। আমাদের কাছে যাদের তথ্য-প্রমাণ আছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।



সংসদীয় কমিটির গড়া মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় বদির নাম থাকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আপনারা শুনে শুনে কথা বলছেন, অনুমানভিত্তিক কথা বলছেন। আর আমরা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক দেখছি। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, আমরা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক কাজ করছি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ম্যাসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশনা যে, এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। সংসদ সদস্য হোক, সরকারি কর্মকর্তা হোক, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা হোক, ইভেন সাংবাদিক- কাউকে ছাড় দেব না। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে সেই তথ্য অনুযায়ী অপারেশন চলছে, সে বদি হোক কিংবা যেই হোক। আমি ক্লিয়ার করে বলেছি, এরপর আর কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না।’

মাদকে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা? মন্ত্রী বলেন, পুলিশ প্রধান এটা ব্যবস্থা নেবেন। যদি তিনি মনে করেন আইনের আশ্রয় নেয়া উচিত, নেবেন। আর যদি মনে করেন বিভাগীয় ব্যবস্থা, তবে তাই হবে।



দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এসব অপরাধীকে ধরতে গেলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়েই তাদের মেরেছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী হাই প্রোফাইলের যারা মাদকের ব্যবসা করেন তাদের যখনই ধরতে গিয়েছি হয় তারা পালিয়েছে, নয়তো তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে যা করার তারা তাই করছে।

গেল কয়েক দিনে বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছে আধুনিক সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। এসব অস্ত্র পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। ফলে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। আমরা পরিষ্কার বলছি, আমরা কারও বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধে যাচ্ছি না। যারা ফায়ার ওপেন করে তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী অ্যাকশন নিচ্ছে। গেল সাত বা আট দিনে শুধু মৃত্যুর ঘটনা নয়, প্রায় দুই হাজারেও অধিক গ্রেফতার হয়েছে।

শুধুমাত্র মাদক বাহকদের হত্যা করা হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুধু বাহক নয় বরং প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের মোবাইল কোর্টও চলছে। সেখানে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিও হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না।
Reactions:

0 comments:

Post a Comment